টাইটানিকের অজানা কিছু তথ্য

টাইটানিক ছবিটি নিয়ে এখনো দর্শকদের প্রবল আগ্রহ। এখনো অজানা রয়ে গেছে এই ছবিটির অনেক অজানা তথ্য। টাইটানিক সিনেমাটির এমনই অজানা কিছু তথ্য আমরা যেনে নিব—

jack-with-t

টাইটানিক (ইংরেজি: Titanic) হচ্ছে ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিজাস্টার রোমান্টিক চলচ্চিত্র। এই সিনেমার পরিচালক, লেখক ও সহ-প্রযোজক হলেন বিখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব জেমস ক্যামেরন। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্ডো ডিক্যাপ্রিও (জ্যাক ডসন) ও কেট উইন্সলেট (রোজ ডিউইট বিউকেটার)। উচ্চবিত্ত সমাজের মেয়ে রোজের সাথে টাইটানিক জাহাজে নিম্নবিত্ত সমাজের প্রতিভূ জ্যাকের প্রেম হয়। ১৯১২ সালে টাইটানিকের পরিণতির পটভূমিতে তাদের এই ট্র্যাজেডিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিটিতে। প্রেমের গল্প আর প্রধান চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও অনেকগুলো পার্শ্ব চরিত্র ঐতিহাসিক সত্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। গ্লোরিয়া স্টুয়ার্ট বৃদ্ধা রোজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বৃদ্ধা রোজ তার টাইটানিক জীবনের কাহিনী বর্ণনা করেছে।

wikipedia থেকে সংগ্রহীত

১৯৯৫ সালে টাইটানিকের চলচ্চিত্রায়ন শুরু হয়। সে সময় ক্যামেরন আটলান্টিকের তলায় টাইটানিকের আসল ভগ্নাবশেষের ছবি তোলা শুরু করেছিলেন। তিনি প্রেম কাহিনীর অবতারণা ঘটিয়েছিলেন মানুষের বাস্তব জীবনের ট্রাজেডির মাধ্যমে টাইটানিকের ট্রাজেডি ফুটিয়ে তোলার জন্য। ছবির আধুনিক সময়ের শ্যুটিং করা হয়েছে রাশিয়ার মির অভিযানের সহযোগী জাহাজ Akademik Mstislav Keldysh-এ, আর প্রাচীন টাইটানিকের শ্যুটিংয়ের জন্য পুরনো টাইটানিক নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। বাহা ক্যালিফোর্নিয়ার Playas de Rosarito-তে টাইটানিক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া টাইটানিকডুবির দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার জন্য ক্যামেরন স্কেল মডেলিং ও কম্পিউটার এনিমেশনের সাহায্য নিয়েছেন। তৎকালীন সময়ে টাইটানিকই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবি। এই চলচ্চিত্র তৈরীতে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্যারামাউন্ট পিকচার্সটুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স যৌথভাবে এই অর্থের যোগান দিয়েছে।

চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। দেখলে এখনও অধিকাংশ পুরুষ-হৃদয়ের রিখটার স্কেলে বাড়তি কম্পন অনুভব হবে। তাঁর রূপের জাদুতে মজেছে গোটা দুনিয়া। তার নাম রোজ ডসন।

চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। দেখলে এখনও অধিকাংশ পুরুষ-হৃদয়ের রিখটার স্কেলে বাড়তি কম্পন অনুভব হবে। তাঁর রূপের জাদুতে মজেছে গোটা দুনিয়া। তার নাম রোজ ডসন।

১৯৯৭ সালের ২রা জুলাই মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে অবশেষে ১৯শে ডিসেম্বর টাইটানিক মুক্তি পায়। মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার কথা শুনে অনেকেই ভেবে বসেছিলেন, এই ছবির মুক্তি পাওয়া আর হবে না এবং ফক্স ও প্যারামাউন্ট বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হবে। আশা খুব বেশি না থাকলেও মুক্তির পর টাইটানিক সমালোচক ও দর্শক সবার কাছ থেকেই বিপুল প্রশংসা পায়। টাইটানিকের সবচেয়ে বড় দুটি অর্জন হচ্ছে: ১৪টির মধ্যে ১১টি ক্ষেত্রেই একাডেমি পুরস্কার জিতে নেয়া এবং সর্বকালের সবচেয়ে বেশী উপার্জন করা। স্ফীতির বিষয়টা বাদ দিলে টাইটানিকের চেয়ে বেশী আয় এ পর্যন্ত কোন সিনেমা করতে পারেনি। টাইটানিক মোট ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে। অবশ্য মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করলে উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বেশী উপার্জনকারী সিনেমার তালিকায় টাইটানিক ৬ নম্বরে থাকে। আর অস্কার ১১টির বেশি কোন সিনেমাই পায়নি। টাইটানিক ছাড়া একমাত্র বেন-হারলর্ড অফ দ্য রিংস: দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিং-ই ১১টি ক্ষেত্রে অস্কার পেয়েছে।

১. টাইটানিক সিনেমাটি প্রযোজনা, পরিচালনা, লেখা, এডিটিং সবটাই করেন একজন ব্যক্তি। তিনি হলেন জেমস ক্যামেরন। এক ব্যক্তি এতগুলো কাজ করে অস্কারে সেরা সিনেমার স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের প্রথম সিনেমা টাইটানিক।

২. যদি আধুনিক যুগের দৃশ্যগুলো জেমস ক্যামেরনের টাইটানিক থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সিনেমাটা হবে ঠিক ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের। ১৯১২ সালে টাইটানিক জাহাজ ডুবতে লেগেছি ঠিক ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

৩. ১৯১২ সালে টাইটানিক-ডুবির ওপর তৈরি হওয়া জেমস ক্যামেরনের এই সিনেমাটি কিন্তু এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া অস্কার জেতা দ্বিতীয় সিনেমা। ১৯৩৩ সালে টাইটানিক-ডুবির ওপর তৈরি হওয়া ‘ক্যাভালকাডে’ ছিল প্রথম ছবি যা অস্কার জেতে। যদিও ‘ক্যাভালকাডে’তে টাইটানিক ডুবি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় ছিল।Titanic-Large20150614200840

৪. কেট উইন্সলেট সিনেমার একমাত্র অভিনেতা যিনি ওয়েটশুট পরেননি। এই জন্য কেটের নিউমোনিয়া হয়ে গিয়েছিল।

৫. সিনেমায় কেটের নগ্ন ছবির যে দৃশ্য লিওনার্দোর হাত দেখা যায়, সেটা আসলে পরিচালক জেমস ক্যামরনের। আসলে কেটের নগ্ন ছবিটি এঁকেছিলেন পরিচালক স্বয়ং।

৬. কেটের বদলে অভিনয় করার কথা ছিল ম্যাডোনার, লিওনার্দোর বদলে টম ক্রুজের।

৭. টাইটানিক নয়, সিনেমার নাম ছিল প্ল্যানেট আইস। ছবি রিলিজের মাস খানেক আগে ছবির নাম বদলে যায়।

৮. লিওনার্দোর সামনে নগ্ন হতে হবে এটা জানার পর প্রথম সাক্ষাতেই লিওর সামনে নগ্ন হয়ে যান কেট। যাতে লিওর মধ্যে শুটিং চলাকালীন কোনো জড়তা না থাকে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *