অর্কিড: প্রকৃতির এক আশ্চর্য উপহার (পর্ব ২)

অর্কিড কি, কোন গোত্র এবং সাধারণ বৈশিষ্ট্য গত পর্বে-ই ব্যাখ্যা করেছিলাম। আজকে একটু গভীরে প্রবেশ করা যাক। শুরুতেই গত পর্বের কিছু না বলা কথা বলে রাখি। সাধারণত অর্কিডের কোন ফল হয় না এবং অধিকাংশ অর্কিড-ই সৌরভহীন। কিছু কিছু ব্যাতীক্রমধর্মী অর্কিড ও রয়েছে যাদের আকার বা আকৃতি দেখতেও পৃথিবীর অনেক বিদ্যমান প্রাণীর মতই মনে হয়। সুগন্ধীযুক্ত অর্কিড খুবই সীমিত। অর্কিডে সাধারণত পোকামকড় আক্রমণ করে না। তাছাড়া বিশ্ববাজারে এখন যে সকল অর্কিড পাওয়া যায় তার অধিকাংশই হাইব্রিড তথা গবেষণাগারে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে সৃষ্ট। এর পর ও অর্কিডের দাম আকাশ ছোয়া যার কারণ স্বরুপ বলতে হয় অর্কিড খুবই দুষ্প্রাপ্য একটি উদ্ভিদ। বনাঞ্চল ছাড়া এই উদ্ভিদের অস্তিত্ব প্রাকৃতিকভাবে টের পাওয়া যায় না। তা ছাড়া অর্কিড সাধারণ চারা গাছ বা উদ্ভিদের মতো খোলা আকাশের নিচে, তপ্ত মরুতে কিংবা হাড় কাঁপানো বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চলে জন্মায় না এবং কোনভাবে তা ঐ অঞ্চলে পৌছলেও বেঁচে থাকতে পারে না যদি না নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত ছায়া এবং পানি পাওয়া না যায়। সর্বোচ্চ ৯০ ডিগ্রী ফারেনহাইট হতে সর্বনিম্ন ৫০ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত অর্কিড স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে। অতিরিক্ত পানি বা বৃষ্টি যেমন অর্কিডের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি অতিরিক্ত শৈত্য প্রবাহ এবং তাপমাত্র ও অর্কিডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।Orchid

চলুন অর্কিড গোত্রের একটু ভেতরে প্রবেশ করা যাক, বালবোফেলাম (Bulbophyllum) অর্কিডের বৃহৎ গোত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম যার অধীনে আছে প্রায় ২০০০ এর ও বেশী ধরনের অর্কিড সাথে সাথে এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ একটি স্বপুষ্পক উদ্ভিদের গোত্র। এই ধরনের অর্কিডগুলোর অধিকাংশই পাওয়া যায় পৃথিবীর উষ্ণতম অঞ্চল তথা আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ভারতীয় মহাসাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।

এই গোত্রটি প্রথম পরিচয় পায় লুইস-ম্যারি আউবার্ট ডু পেটিট-ঠাউরাস (Louis-Marie Aubert du Petit-Thouars) উদ্ভিদবিজ্ঞান অনুসারে ঠাউআরস্ (Thouars) এর মাধ্যমে। তার বই (Histoire particulière des plantes orchidées recueillies sur les trois Iles Australes d’Afrique, de France, de Bourbon et de Madagascar) যেখানে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৭ ধরনের বালবোফেলাম এর সাথে। যার সংখ্যা বর্তমানে এসে দাড়িয়েছে ২৮০০। এতবিস্তৃত একটি গোত্রকে শ্রেনীবিন্যাস করতে বিজ্ঞানীরা রীতিমত হিমসিম খেয়ে জান। এই প্রজাতির নামকরণ করা হয় লাতিন শব্দ বাল্বাস (bulbus) যার অর্থ ‘বালবের ন্যায়’ এবং গ্রীক শব্দ ফীলন (phyllon) যার অর্থ পাতা এই প্রজাতির অধিকাংশ ধরন (প্রায় ৬০০) পাওয়া যায় পাপুয়া’র মনটানা ফরেস্ট যাকে এই গোত্রের মাতৃভূমি ও বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, সাইথিস্ট এশিয়া, আফ্রিাকা, মাদাগাস্কার এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে ও দেখা যায়।

এই প্রাজাতির অর্কিড গুলো গঠনগত দিক থেকে কিছু সাধরণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একক মাথা ঝোঁকানো উপকন্দ মূলগত পুষ্পবিন্যাস এবং ছোট ঠোটের ন্যায় পাঁপড়ি এই প্রজাতির অর্কিডগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এই প্রজাতির একটি ধরন আছে যা প্রায় পাতাহীন হয়ে এবং সালোকসংশ্লেষণের অঙ্গ হিসাবে তার উপকন্দ ব্যবহার করছে।

এই পর্যন্ত যত বালবোফেলাম আবিষ্কার হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটির নাম নিম্নে প্রদান করা হলো:

Bulbophyllum Beccarii

Bulbophyllum beccarii

Bulbophyllum barbigerum

Bulbophyllum Falcatum

Bulbophyllum falcatum

Bulbophyllum Santosii

Bulbophyllum santosii

Bulbophyllum macphersonii

Bulbophyllum medusa

Bulbophyllum ciluliae Bianch. & J.A.N.Bat., Sitientibus 2004

Bulbophyllum orezii Sath.Kumar 2004

“Bulbophyllum sagemuelleri” Bustamante & Kindler 2015

“Bulbophyllum translucidum” Kindler, Bustamante & Ferreras 2016

Bulbophyllum Nocturnum

২০১১ সালে এই ধরন বা গণের নতুন একটি ধরণ আবিষ্কৃত হয়েছে যা রাতের বেলা ফুল ফোটে এবং দিন হতে হতে ফুল তার পাঁপড়িগুলো বন্ধ করে দেয়। এই ধরন বা গণটির নাম Bulbophyllum Nocturnum.  এই গণের একটি হাইব্রিড ও গবেষণাগারে উৎপাদন করা হয়েছে যার নাম Triasphyllum.

এই প্রজাতির বেশ কিছু অর্কিড এখন বিলুপ্তীর পথে, নিম্নে এদের নাম প্রদান করা হলো:

Bulbophyllum Bifarium

Bulbophyllum bifarium, Vulnerable

Bulbophyllum Filiforme

Bulbophyllum filiforme, Critically endangered

Bulbophyllum Gravidum

Bulbophyllum gravidum, Vulnerable

Bulbophyllum jaapii, Vulnerable

Bulbophyllum kupense, Critically endangered

Bulbophyllum modicum, Endangered

Bulbophyllum nigericum, Vulnerable

Bulbophyllum pandanetorum, Endangered

Bulbophyllum rubrolabellum, Endangered

Bulbophyllum tokioi, Endangered

সকল ধরনের ছবি আমি সংগ্রহ করতে পারিনি বলে দেওয়া হয়নি এজন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। সাথেই থাকুন আরো অনেক কিছু জানানোর আছে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *