আমার প্রথম অ্যাডভেঞ্চার

হ্যালো এভরিওয়ান ।

প্রথমেই সিনিয়র রাইটারদের জন্য শুভেচ্ছা রইলো ।
আমার প্রথম লেখাটি ভ্রমণ ক্যাটাগরিতে স্থান পাবে । আপনাদেরকে বলব আমার প্রথম অ্যাডভেঞ্চারের কথা ।

My-Adventure

তখন স্কুলে ক্লাস সেভেন বা এইটে পড়ি। তাই তখনকার পয়েন্ট অব ভিউ থেকেই অভিজ্ঞতাটা লিখছি ! ছোটবেলা থেকে টিভিতে অ্যাডভেঞ্চার শো গুলো দেখে দেখে নিজেকে তৈরি করছিলাম । তবে মফস্বল শহরে দুর্গম জায়গা না থাকায় সুযোগ পাচ্ছিলাম না । অবশেষে একদিন তৈরি করে নিলাম সুযোগ। এলাকায় নতুন একটা ব্রিজ তৈরি হচ্ছিলো । সেটাকেই মনোনীত করলাম মোক্ষম জায়গা হিসেবে ! এর কারণটা একটু পড়লেই বুঝতে পারবেন ।

তো, সব যখন ঠিকঠাক গ্রীষ্মের এক তপ্ত দিনে বেরিয়ে পড়ি । লক্ষ্য ছিল ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধ ধরে পেট্রোলিং করা । প্রধমেই নদী থেকে একটা বোতলে পানি সংগ্রহ করে নিই আর এটাই ছিল আমার প্রধান হাতিয়ার ! কারণ ১৫০ মিটারের মত ব্রিজ এর এক প্রান্ত থেকে উঠে অন্য প্রান্তে গেলেই তৃষ্ঞা চেপে বসবে। তখন কাঠ কয়লা দূর্বাঘাস দিয়ে ফিল্টার তৈরির পদ্ধতি শিখিনি যেমনটা এখন করে পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা রাখি । তো, প্রচন্ড বাতাসে রোদের উষ্ঞতা টের পাচ্ছিলাম না । ব্রিজের প্রান্তে এসেই রোমাঞ্চ শুরু হয় ! 

এখানে পাহাড়ের মত ৫০ মিটার খাঁড়াই নেমে গিয়েছে যা ভার্টিক্যালি ৪৫ ডিগ্রি কোণ বরাবর । এখান দিয়ে নামলে বালু আর আলগা মাটি ধ্বসে মুহূর্তেই ভাঙ ইট আর কাঁটাযুক্ত গাছগাছালির মধ্যে পড়তে হবে । এদিকে কাছে রশি ছিল না । একটা জিনিস তখনই জানতাম যে মনের জোরই হলো আসল জোর । তাই ওখান দিয়েই নামার সিদ্ধান্ত নিলাম । ভাবছিলাম এভারেস্টে না জানি এরকম কয়েকশত খাঁড়াই বেয়ে উঠানামা করতে হয়, তাহলে এ আর এমন কি ? এতে কাজই হলো । যতটা সম্ভব নিজেকে মাটির সাথে মিশিয়ে তরতর করে নামতে থাকলাম এবং সফল হলাম । নেমে এলাম কিছু গাছগাছালির ভিতর । হঠাৎ পায়ে কাঁটা ফুটলো ।

তখন অ্যাডভেঞ্চারের নামেই এতটা উত্তেজিত ছিলাম যে ফার্স্ট এইড সাথে রাখার কথা মনে ছিল না । প্রতিরোধক না পেয়ে ধুয়ে রুমাল বেঁধে দিলাম । হঠাৎ মাথায় এল ন্যাচারাল মেডিসিনের বিষয়টা । একধরনের লতা আছে যা কাঁটা জায়গাতে দিলে ফার্স্ট এইডের কাজ করে । খুঁজে খুঁজে এরকম একটা লতা পেয়ে দিলাম । তার আগে কচু পাতার রস দিয়ে স্যাভলনের কাজটা সেরে নিলাম ! তারপর ভাবছিলাম কিভাবে মরুভূমি পাড়ি দেব !

মরুভূমির কথা শুনে অবাক হবেন না ! সামনে ছিল ৩০০ মিটারের মত বালুময় এক স্থান । আশেপাশে কোনো জনবসতি বা জঙ্গল নেই কিন্তু অনেক নারিকেল গাছ ছিল যা ঠিক একটা মরুভূমির ফিলিংস তৈরি করতে যথেষ্ঠ । অতিরিক্ত কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে নিলাম । দিগন্তরেখার দিকে তাকিয়ে খড়ের গাঁদাটাইপ কিছু আবিষ্কার করলাম । এটাই জনবসতি থাকার লক্ষণ তাই শুরু করলাম মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার যাত্রা । লক্ষ্য দূরের ওই ছায়াশীতল গ্রাম । এই ছিল আমার স্কুল লাইফের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার ! এখন ফিরে আসি ২০১৬ তে ।

আজকাল ইয়ং জেনারেশন ক্লাসরুম আর ফেসবুক কেন্দ্রিক অ্যাটিচিউড ধারণ করছে যা খুবই দুঃখের । নতুন বন্ধু বান্ধবী তৈরি করা বা রিলেশনশীপে যাওয়া আর সারাদিন ক্লাস কোচিং ভাল রেজাল্ট করা এটাই তাদের লাইফে পরিণত হয়েছে । কিন্তু পৃথিবীটাকে জানার ইচ্ছা, দেখার ইচ্ছা কয়জনের ? আমরা নিজেরাই জানিনা আমাদের দেশে কি কি আছে । ছোটবেলার ওই অ্যাডভেঞ্চার আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়ে চলেছে দিনকে দিন । আমি জানি লাইফে করার মত অনেক কিছু বাকি আছে এখনো, অনেক কিছু… ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *