আপনি জানেন কী, ষাট গম্বুজ মসজিদে সর্বমোট কতটি গম্বুজ আছে…? কিভাবে যাবেন, আর কী কী দেখার আছে এখানে ?

ছোট বেলা থেকে শুনে আসছি বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ। অর্থাৎ এ মসজিদটিতে ৬০টি গম্বুজ আছে। যারা গম্বুজের সঙ্গে পরিচিত নন তাদের উদ্দেশে বলছি, মসজিদের ওপরে গোলাকারে গ্লোবের মতো দেখতে যে জিনিসটি বানানো হয় তাকে গম্বুজ বলে। তো ৬০ গম্বুজ মসজিদে ৬০ গম্বুজ থাকবে এটাইতো স্বাভাবিক। কিন্তু রহস্য সেখানেই। গতকাল ১০ অক্টোবর-১৬ সোমবার আমার দুই ছেলে আব্দুল্লাহ ফাহাদ ও সাইফুল্লাহ সিফাতকে নিয়ে খুলনা থেকে মোটরবাইক যোগে বাগেরহাটের ৬০ গম্বুজ মসজিদ ও খান জাহান আলী (র.) মাজার দেখতে রওয়ানা হলাম। সকাল দশটায় বয়রা বাসা থেকে রওয়ানা করে সাড়ে এগারোটায় ৬০ গম্বুজ মসজিদে পৌছালাম। ২০ টাকা টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করলাম। আর মোটরবাইকের পার্কিং বাবদ দিতে হলো ১২ টাকা।

sixty-domed-mosque

মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে ছোট ছেলে সিফাতকে বললাম বাবা গুনে দেখ এখানে কতটি গম্বুজ আছে। সে গুনে বললো সাত লাইন গম্বুজ। প্রতিটি লাইনে ১১ টি করে গম্বুজ আছে। অর্থাৎ সাত লাইনে ৭৭টি গম্বুজ। এরপর চার কোনায় আরো ৪টি গম্বুজ আছে। সবমিলিয়ে ৮১ টি গম্বুজ। মসজিদের প্রবেশের মুখে একটি সাইনবোর্ড রয়েছে। সেখানেও মসজিদের ইতিহাস লেখা আছে। সাইনবোর্ড থেকেও জানা গেলে আমাদের হিসাবের সঙ্গে মিল আছে।

ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খান জাহান আলীর মাজার দেখতে চান…?

যারা বাগেরহাটের ৬০ গম্বুজ মসজিদ ও খান জাহান আলীর মাজার দেখতে চান তারা দেখে আসতে পারেন। একটা থেকে অপরটির দূরত্ব দুই কিলোমিটারের মতো।

ঢাকা থেকে বিমানে যশোর-খুলনা-হয়ে বাগেরহাট। বাগেরহাট শহর থেকে দশ কিলোমিটার আর খুলনা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব ষাট গম্বুজ মসজিদ। যারা বিমানে আসবেন। তারা ঢাকা থেকে যশোর নামবেন। এরপর বিমানের গাড়িতে আপনাকে খুলনা শহরের শিববাড়ী মোড়ে নামিয়ে দেবে। আপনি চাইলে প্রাইভেট কার অথবা মাইক্রো ভাড়া নিয়ে খুলনা থেকে ৬০ গম্বুজ মসজিদ যেতে পারেন। যদি গাড়ি ভাড়া নিতে চান তাহলে শিববাড়ী মোড় থেকে ইজিবাইকে ময়লাপোতা মোড়ে যাবেন। সেখানে অনেকগুলো রেন্ট-এ কারের গাড়ি থাকে। বড় মাইক্রো নিলে আপ-ডাউন তিন হাজার লাগতে পারে। আর যদি বাসে যেতে চান তাহলে শিববাড়ী মোড় থেকে ইজিবাইকে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে যাবেন। সোনাডাঙ্গা থেকে বাগেরহাট অথবা পিরোপুরের বাসে উঠবেন। পিরোজপুরের বাসে উঠলে ১০০ টাকা ভাড়া নেবে। আর বাগেরহাটের বাসে ৫০টাকার মধ্যে যেতে পারবেন। খুলনা শহর ছেড়ে রূপসা সেতু পার হয়ে কাটাখালি মোড় হয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে দিয়ে বাগেরহাটের বাসগুলো যায়। সুতরাং বাগেরহাট শহরের আগেই আপনি পৌছে যাবেন, ষাটগম্বুজ।খান-জাহানের-দরগা

বাস অথবা প্রাইভেট গাড়িতে ঢাকা থেকে কিভাবে যাবেন…?

ঢাকার গাবতলী অথবা সায়েদাবাদ থেকে খুলনা বাগেরহাটের অনেক বাস ছাড়ে। আপনি সরাসরি বাগেরহাটের বাসে আসতে পারেন। অথবা খুলনা এসে একদিন বিশ্রাম নিয়ে বাগেরহাট যেতে পারেন। গাবতলী থেকে যেসব বাস ছাড়ে এগুলো পাটুরিয়া দৌলতদিয়া হয়ে খুলনা-বাগেরহাট যায়। সময় লাগে ১০থেকে ১২ ঘন্টা। অপর দিকে সায়েদাবাদ থেকে যেসব বাস ছাড়ে সেগুলো শিমুলিয়া(মাওয়া) হয়ে ফরিদপুরের ভাঙা ও গোপালগঞ্জ হয়ে বাগেরহাট খুলনা যায়। সময় লাগে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা। সময় কত লাগবে তা ফেরী পাওয়ার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া গুলিস্তান থেকে কয়েকটি গাড়ি খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।এগুলো লঞ্চ পারাপার। গুলিস্তান থেকে শিমুলিয়া ঘাটে নামিয়ে তাদের রিজার্ভ লঞ্চে আপনাকে কাওড়াকান্দি ঘাটে নিয়ে যাবে। সেখানে একই কোম্পানির গাড়িতে আপনাকে খুলনা নিয়ে আসবে। এসব গাড়িতেও আপনি বাগেরহাট আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে নোয়াপাড়া মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে ইজিবাইক অথবা মাহিন্দ্রা গাড়িতে ষাটগম্বুজ ও খান জাহান আলীর মাজারে যেতে পারবেন।

কি কি দেখবেন…?

টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করুন। গেটের কাছেই টয়লেট আছ, হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে নিতে পারেন। এরপর প্রথমেই যাদুঘরে গিয়ে দেখে নিন। পুরো এলাকায় অনেক সুসজ্জিত ফুল গাছ আছে। এসব গাছের পাসে দাড়িয়ে ছবি তুলতে পারেন। এরপর মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে দেখে নিন। প্রবেশ মুখে দুটি বোর্ডে ইতিহাস লেখা আছে, আগে সেখান থেকে মসজিদের ইতিহাস জেনে নিতে পারেন। পূ্র্ব উত্তর কোনে একটি বড় রেইনট্রি গাছ আছে। এরপর মসজিদের পশ্চিম পাশে বিশাল দীঘি দেখে নিন। দীঘিতে একটি বড় ঘাট আছে। দীঘির দক্ষিণ পারে অনেকগুলো বিশ্রামের ঘর আছে। সেখানে বসে কতক্ষণ দীঘির পানি দেখতে পারেন। দীঘির চার দিকে অনেক গাছ আছে।এই দীঘির পারে ঘুরলে মন জুড়িয়ে যাবে।

পুরো ষাটগম্বুজ এলাকা ঘুরে দেখতে এক ঘন্টার বেশি লাগবে না। এরপর বের হয়ে ইজি বাইক অথবা মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলারে করে খানজাহান আলীর মাজারে যাবেন।

মাজারে কী দেখবেন…?

খান জাহান আলীর মাজারে একটি বড় দীঘি আছে। দীঘিতে একটি বড় ঘাট আছে। এছাড়া খান জাহান আলীর মাজার(কবর) আছে। দীঘিতে আগে কুমির ছিল। এখন আর নেই।মাজারের দক্ষিণ পাশেই ঘাট। দীঘিটি অনেক বড়। এর পারে বসে থাকলেও মন ভাল লাগে।

মো. মহসিন হোসেন, খুলনা

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *