পৃথিবীতে ডাইনোসরের রাজত্ব ১৬ কোটি বছর অতিবাহিত ।।

ছোট কিংবা বড় সকলেরই ডায়নোসরের সঙ্গে প্রথম পরিচয় টিভির পর্দায় । ডায়নোসর সম্পর্কে মানুষের সাধারণ যা ধারণা আছে তাও ওই ছবি থেকেই।জুরাসিক যুগের নাম শুনেছেন নিশ্চয়। হ্যাঁ, ডাইনোসরদের যুগ। ছবিও তৈরি হয়েছে জুরাসিক পার্ক নিয়ে। স্টিভেন স্পিলবার্গের সেই বিখ্যাত ছবি। কিন্তু জুরাসিক পার্কের ডায়নোসর আর পৃথিবীর বুকে একসময় রাজত্ব করে বেড়ান আসল ডায়নোসর কী একই…? ছবিতে দেখে এই ভয়ঙ্কর প্রাণীটা সম্পর্কে আমরা যা ভাবি তা কি সব ঠিক…? গবেষণা বলছে, না। ডায়নোসর সম্পর্কে এতদিন আমরা যা জেনে এসেছি তার সবটা ঠিক নয়।dinosaur-Jurassic-Park

বর্তমানে পৃথিবীতে ডাইনোসর বলতে কিছু নেই কিন্তু বিজ্ঞানীরা এ ধারনাও প্রেষণ করেছে যে আমাদের আশে পাশে ঘরে ছোট টিকটিকই আর কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী ডাইনোসরের প্রজাতি। কিন্তু বিশালাকৃতির এই প্রাণীটি প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বা ১৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে বিচরণ করেছিল। কিভাবে তারা পৃথিবীতে আসলো এবং কিভাবে তারা হারিয়ে গেলো তা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা।

নামকরণঃ

গ্রীক শব্দ (Denios & Sauros) (ডেনিওস এবং সাউরোস) থেকে এ শব্দের উৎপত্তি। Denios এর অর্থ ভয়ঙ্কর আর Sauros এর অর্থ টিকটিকি। অর্থাৎ ভয়ঙ্কর টিকটিকি। বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে্র গভেষকরা মনে করতেন, ডাইনোসর ছিলো  স্বল্পবুদ্ধি, ঠান্ডা মেজাজের ও মন্থর গতিসম্পন্ন প্রাণী। কিন্তু এখন তাদের ধারণার পরিবর্তন ঘটে।

dinosaurs-identityপ্রজাতি:

  • ডাইনোসরের বিচরণ ছিল পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে ।। এন্টার্কটিকায়ও এর অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া গেছে ।
  • ডাইনোসরের কিছু প্রজাতি ছিল মাংশাসী, কিছু ছিল তৃণভোজী
  • এদের মধ্যে কোনোটি উচ্চতায় ছিল প্রায় ১০০ ফুট আবার কোনোটি ছিল মুরগীর সমান !!
  • কিছু প্রজাতী দুপায়ে হাটতে পারত আবার কিছু প্রজাতি চারপায়ে ভড়করে হাটত
  • ডাইনোসরের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৫০০+
  • জীবাশ্ম রেকর্ডের ভিত্তিতে ১৮৫০ টি প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে…
  • এখনও প্রায় ৭০% প্রজাতি আবিষ্কারের অপেক্ষায়
  • অবশ্য এর পূর্ববর্তী এক গবেষণায় পৃথিবীতে ৩৪০০ প্রজাতির ডাইনোসর ছিল বলে উল্লেখ করা হয় যার বেশীর ভাগেরই অস্তিত্ব বর্তমানে টিকে থাকা জীবাশ্মে নেই।

ডাইনোসরের আগমন:
ডাইনোসরেরা ট্রায়াসিক যুগের শেষর দিকে, অর্থাৎ প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করতে শুরু করে। আর ওদের শাসনকাল চলে ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ ডাইনোসর পৃথিবী শাসন করেছে প্রায় ১৬ কোটি বছর। ডাইনোসরের বেশীরভাগ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। আমরা বর্তমানে পৃথিবীতে যে সকল পাখি দেখতে পাই, এদেরকেও ডাইনাসোরেরই কিছু প্রজাতির বিবর্তিত রূপ বলে ধারণা করা হয়।new-discovered-The-biggest-dinosaur-on-the-earth

বিলুপ্ত হওয়ার কারণ:

পৃথিবীতে আজ থেকে ২৩ কোটি বছর আগে ডাইনোসর বিলপ্তি হয়। লক্ষ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে আঘাত হানা গ্রহাণুখন্ডের এবং বিশালকায় ধূমকেতু  কারণে ডাইনোসরের বিলুপ্তি ঘটে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। ধূমকেতু বা গ্রহাণুখণ্ড হয়ত পৃথিবীতে আছড়ে পড়ায় ধূলো আর রাসায়নিক মেঘ সূর্যালোক প্রবেশে বাধা দিয়েছে কিংবা এর বিস্ফোরণে দাবানল ঘটে অতিকায় জন্তু ডাইনোসার বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

পৃথিবীর জলবায়ুগত প্রতিকূলতা, গ্রাহাণুর প্রচণ্ড আঘাত এবং তা থেকে সৃষ্ট দুর্যোগই ডাইনোসর বিলুপ্তির পেছনে মূল কারন বলে মনে করছে বিজ্ঞানীরা। তাছাড়া খাদ্যাভাবকেও অনেকে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ মনে করেন। সেসময় মাংশাসী ডাইনোসর তৃণভোজী ডাইনোসরদের খেয়ে ফেলত বিধায় এক সময় খাদ্যাভাব সংঘটিত হয় বলে অনেকের ধারণা।

বিশালাকার ডাইনোসরেরা চলাফেরায় ধীর ও স্থবিরতার ফলে এবং নোংরা পরিবেশের কারণে তারা বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগের শিকার হয় এবং এভাবে এক সময় বিলুপ্তির পথে অগ্রসর হয় বলে অনেকে মনে করেন।

তবে ডাইনোসরের বিলুপ্তিতে আরেকটি কারণকে প্রাধান্য দেয়া হয় তা হলো, তাদের ডিমের খোসার পুরুত্ব। পরীক্ষায় দেখা যায়, সাড়ে ছয় কোটি বছর আগের ডিমের খোসা ১২ থেকে ১৪ কোটি বছর আগের ডিমের খোসার চেয়ে যথেষ্ট পুরু ছিল। ফলে ডিমের খোসা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা বাচ্চা ডাইনোসরের পক্ষে কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল এটি । এর ফলে পরবর্তীতে ডাইনোসরের বিকলাংগতা দেখা দিত এবং প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেত। এভাবে এক সময় তারা বিলুপ্তির দিকে অগ্রসর হয়।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *