আজকের জন্য বেঁচে থাকুন ! পর্ব-০১

আসুন এ পর্বে আপনাদের সাথে ছোট ছোট কিছু গল্প শেয়ার করি। জেনে আপনার ভালো লাগবে নিশ্চিত। 🙂

১৮৭১ সালের কথা, বসন্তকালে এক তরুণ একখানা বইয়ের একুশটি কথা পড়ে গেলেন, কথাগুলো তার ভবিষ্যৎ জীবনে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। মেডিক্যাল স্টুডেন্ট ছিলেন তিনি। শেষ পরীক্ষায় পাশকরা, ভবিষ্যতে কোথায় যাবেন, কি করবেন, ডাক্তারি পেশায় কেমন হবে, কিভাবে জীবিকা অর্জন করবেন এইসব নিয়ে তিনি খুবই চিন্তায় পরেছিলেন।

Live-for-today

১৮৭১ সালে যে কথাগুলো ঐ তরুণ ডাক্তার ছাত্রটি পড়েছিলেন তারই সাহায্যে তিনি হয়েছিলেন তার ঐ সময়ের সর্বশ্রেষ্ট একজন চিকিৎসক। তিনি বিশ্ববিখ্যাত ‘জন হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিন’ পরিচালনা করেন। তিনি অক্সফোর্ডের  রেজিযাস অধ্যাপক নিযুক্ত হন – এটা ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কোন চিকিৎসককে দেওয়া সর্বচ্চ সন্মান। ইংলন্ডের রাজা তাকে নাইট উপাধি দেন।

ওই চিকিৎসক হলেন স্যার উইলিয়াম অসলার। ১৮৭১ সালের বসন্তকালে যে কথাগুলো তিনি পড়েছিলেন তা এই টমাস কার্লাইলের লেখা একুশটা কথাঃ

‘অস্পষ্টতায় ভরা দূরের কিছুর চেয়ে কাছের স্পষ্ট কিছু দেখাই আমাদের দরকার’।

বিয়াল্লিশ বছর পরে এক রাতে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার উইলিয়াম তার ছাত্রদের সামনে একটা ভাষণ দেন। তিনি বলেন তার মত একজন মানুষ, যিনি চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আর জনপ্রিয় কোন বই লিখেছেন, তার অবশ্যই বিশেষ ধরনের গুন মস্তিস্কে থাকবে। তিনি বলেন কথাটা একদম অসত্য। কারন তার বন্ধুরা জানেন তার মস্তিস্ক অতি সাধারন।

 

তাহলে তার এই সাফল্যের গোপন রহস্য কি ? তিনি বলেছিলেন, সেটা হল তার কথা অনুযায়ী ‘দৈনিক জীবন যাপনের ফল’।

কথাটার অর্থ কি ? এই বক্তিতা দেয়ার কয়েক মাস আগে স্যার অসলার বিরাট এক যাত্রীবাহী জাহাজে আটলান্টিক পার হন। জাহাজের ক্যাপ্টেন সেখানে একটা বোতাম টিপতেই অদ্ভুত এক কান্ড ঘটে – কিছু যন্তপাতির শব্দ জেগে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজের প্রতিটি অংশ একে অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যায়। ডঃ অসলার ছাত্রদের এবার বললেন, ‘তোমরা ওই চমৎকার জাহাজের চেয়েও অনেক বেশি আশ্চর্যজনক ভাবে তৈরি এবং ভবিষ্যতে অনেক দূর তোমাদের যেতে হবে। আমি যা বলতে চাই তা হলও তোমাদের সব যন্ত্রপাতি এমনভাবে নিযন্ত্রন করো যাতে দৈনিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হও – এতেই নিরাপদে যাত্রাপথে চলতে পারবে। পাটাতনে দাঁড়িয়ে দেখে নাও বেশিরভাগ যন্ত্র সচল আছে কিনা। আর একটা বোতাম টেপো আর শুনে নাও তোমাদের জীবনের লোহার দরজাগুলো আতীতকে তোমাদের জীবনে রুদ্ধ করতে পারবে কিনা। আর একটা বোতাম টেপে বন্ধ করে দাও নবাগত ভবিষ্যতকে। তাহলেই তোমরা নিরাপদ –  আজকের মত নিরাপদ ! আতীরকে রুদ্ধ করো ! অতীতকে সমাধিতে দাও… অতীতের কথা ভেবে অনেক মূর্খই মরেছে… ভবিষ্যতকে অতীতের মতই বন্ধ করে দাও … ভবিষ্যৎ হলও আজ… আগামীকাল বলে কিছুই নেই। মানুষের মুক্তির দিন হলও আজ। মানুষ ভবিষ্যতের কথা ভেবে শক্তিহীনতা। মানসিক সুশ্চিন্তা আর স্নায়ুর দুর্বলতায় ভোগে। অতএব অতীত আর ভবিষ্যৎ এর কথা না ভেবে রোজকার জীবন নিয়েই বাচতে চেষ্টা করো।’   মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ার ১০ টি কারন

তবে কি ডঃ আসলার ভবিষ্যতের জন্য তৈরি থাকতে বারন করেছেন ? না, কক্ষনোই না। তবে ঐ ভাষণে তিনি বলেছিলেন ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হওয়ার সর্ব সেরা পথ হলও সমস্ত বুদ্ধি, ক্ষমতা আর আগ্রহ দিয়ে আজকের জন্য কাজ করে যাওয়া।

আপনার সাতটি কথায় হতাশাগ্রস্ত মানুষটি ফিরে পারে আত্মবিশ্বাস ।।

সত্যি কি আপনি অন্যের দ্বারা প্রভাবিত ? স্থির হয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করুন ।।

নিজের চেহারা নিয়ে হীনমন্যতা একদম না ।।

এই সংক্রান্ত আরও খবর...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *